আল্লাহর সেরা উপহার মানবজাতির জন্য;
যে সময়ে মহানবী (স.)-এর আগমন ঘটে, তখন আরব উপদ্বীপ ‘আইয়ামে জাহেলিয়াহ’ বা ‘অন্ধকার যুগ’ নামে পরিচিত ছিল। মানুষ মহান আল্লাহকে ভুলে গিয়ে হানাহানি, কাটাকাটি ও মূর্তিপূজায় লিপ্ত ছিল। এই ঘোর অন্ধকার থেকে মানবজাতিকে মুক্ত করতে এবং আলোর পথের সন্ধান দিতে মহান আল্লাহ তাআলা রাসুলুল্লাহ (স.)-কে দুনিয়ায় প্রেরণ করেন। তিনি ছিলেন আল্লাহর পক্ষ থেকে সমগ্র সৃষ্টির জন্য এক বিশেষ রহমত।
পবিত্র কোরআনে তাঁকে ‘রাহমাতাল্লিল আলামিন’ বা ‘বিশ্বজগতের জন্য রহমত’’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।
৪০ বছর বয়সে তাঁর ওপর ওহি আসা শুরু হয় এবং তিনি মানবজাতিকে সঠিক পথ দেখাতে শুরু করেন। ইসলামি বিশ্বাস অনুযায়ী, মহান আল্লাহ রাসুলুল্লাহ (স.)-কে সৃষ্টি না করলে এই পৃথিবীই সৃষ্টি করতেন না। এসব কারণে মুসলিম উম্মাহর কাছে এ দিনের গুরুত্ব ও তাৎপর্য অনেক বেশি। বাংলাদেশসহ বিশ্বের প্রায় সকল মুসলিম সম্প্রদায় এ দিনটি যথাযথ ভাবগাম্ভীর্যের সঙ্গে পালন করে থাকে।
রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক আয়োজন : পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (স.) উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এবং প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস পৃথক বাণী দিয়েছেন।
রাষ্ট্রপতি তাঁর বাণীতে বলেছেন, মহানবীর (স.) শিক্ষা সমগ্র মানবজাতির জন্য অনুসরণীয়। তিনি মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেন যেন তাঁর জীবনাদর্শ আমাদের সবার চলার পথের পাথেয় হয়।
প্রধান উপদেষ্টা তার বাণীতে বলেন, মহানবী (স.) মানব জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে অনিন্দ্য সুন্দর অনুসরণীয় শিক্ষা ও আদর্শ রেখে গেছেন, যা প্রতিটি যুগ ও শতাব্দীর মানুষের জন্য মুক্তির দিশারি হিসেবে পথ দেখাবে। তিনি দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি, মঙ্গল ও সমৃদ্ধি কামনা করেন এবং সকলকে মহানবীর (স.) সুমহান আদর্শ অনুসরণের মাধ্যমে মানবতার কল্যাণে কাজ করার আহ্বান জানান।
দিবসটি উপলক্ষে সরকার, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠন নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। এ সকল কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে মহানবীর (স.) জীবনের ওপর আলোচনা, মিলাদ ও দোয়া মাহফিল। এছাড়াও দেশের বিভিন্ন জায়গায় বর্ণাঢ্য র্যালি ও জশনে জুলুসের আয়োজন করা হয়েছে। চট্টগ্রামের বৃহত্তম জশনে জুলুসে প্রতি বছরের মতো এবারও লাখ লাখ মানুষের সমাগম হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
