গতকাল রোববার (২১ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যার পর থেকে টানা প্রায় ১২ ঘণ্টা টেকনাফের কয়েকটি পাহাড়ে যৌথভাবে এ অভিযান পরিচালনা করে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।
সোমবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে টেকনাফ ২ বিজিবি দফতরে সংবাদ সম্মেলনে বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল আশিকুর রহমান ও র্যাব-১৫ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল কামরুল হাসান এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।
আটককৃতরা হলেন : টেকনাফের বাহারছড়া ইউনিয়নের কচ্ছপিয়া এলাকার আব্দুল্লাহ (২১), রাজরছড়ার সাইফুল ইসলাম (২০) ও মো. ইব্রাহিম (২০)।
আটক ব্যক্তিরা মানবপাচারকারি আন্তর্জাতিক চক্রের সদস্য। এই চক্রের আরও ৯ জনকে শনাক্তের তথ্য জানানো হয়েছে সংবাদ সম্মেলনে।
পলাতক থাকা চক্রের অন্য সদস্যরা হলেন : বাহারছড়া ইউনিয়নের মৃত মীর কাসেমের ছেলে রেজাউল করিম (৩৭), মমতাজ সওদাগরের ছেলে আয়াতুল তনজিদ (৩০), রোহিঙ্গা তুফান, আব্দুল আলীম, জাকির, হাবিবছড়ার এলাকার রশিদ মেম্বার, কচ্ছপিয়া এলাকার মুজিব (৩০), জয়নাল (২৫), আব্দুল মজিদ (২০)।
অভিযানে উদ্ধার করা হয়েছে ১টি বিদেশি পিস্তল, ১টি বিদেশি পিস্তলের গুলি, ১টি একনলা বন্দুক, ১টি একনলা বন্দুকের গুলি, ১টি ওয়ানগান শুটার, ১টি ওয়ানগান শুটারের গুলি, ২টি দেশি রামদা ও ১টি চাকু।
সংবাদ সম্মেলনে র্যাবের অধিনায়ক লে. কর্নেল কামরুল হাসান বলেন, টেকনাফের বাহারছড়া কচ্ছপিয়ায় গহিন পাহাড়ে একটি পাচারকারী চক্র মালয়েশিয়া-থাইল্যান্ডে নেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে কয়েকজন ভুক্তভোগীকে আটক রাখার খবরে রোববার সন্ধ্যার পর বিজিবি ও র্যার সদস্যরা প্রথমে বাহারছড়া পাহাড়ি এলাকা থেকে একজন পাচারকারীকে আটকসহ চার ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করা হয়। তাদের লোমহর্ষ অভিজ্ঞতার বর্ণনা এবং গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের ভিত্তিতে পাহাড়ে বৃহৎ যৌথ অভিযান পরিচালনা করি। এতে আলাদাভাবে পাচারকারীদের তিনটি পাহাড়ি আস্তানা থেকে ৮৪ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। তাদেরকে পাচারের জন্য জড়ো করা হয়েছিল।
তিনি বলেন, বিজিবি ও র্যাবের ১২ ঘণ্টার দুঃসাহসিক অভিযানে ঘটনাস্থল থেকে অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় আইনি প্রক্রিয়া চলছে।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে টেকনাফ ২ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. আশিকুর রহমান বলেন, সম্প্রতি সময়ে টেকনাফে পাহাড়ি মানব পাচারের বেশ কয়েকটি গ্রুপ সক্রিয় হয়েছে। ফলে আমরা টহল-নজরদারির মাধ্যমে পাহাড়ে অভিযান পরিচালনা করছি। এরই অংশ হিসেবে আমরা কয়েকটি পাহাড়ে মানবপাচার চক্রের আস্তানায় হানা দিয়ে সমুদ্রপথে মিয়ানমার হয়ে মালয়েশিয়া পাচারের উদ্দেশে জড়ো করা ৮৪ জনকে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। তাদের মধ্যে যেমন রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাসিন্দা রয়েছে, তেমনি বাংলাদেশি নাগরিকও রয়েছে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশে অবস্থানরত হোসেন, সাইফুল ও নিজাম নামের তিন ব্যক্তি এই আন্তর্জাতিক চক্রের মূলহোতা। তাদের অধীনে রয়েছে বিভিন্ন শাখা-প্রশাখায় বিভক্ত দালালদের একটি শক্তিশালী নেটওয়ার্ক রয়েছে। এছাড়া স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ ক্যাম্পের চক্রও জড়িত রয়েছে। তাদের আমরা ধরতে কাজ করছি।
একই পাহাড় থেকে এর আগে কোস্টগার্ড ১৮ সেপ্টেম্বর ৬৬ জনকে উদ্ধার করে, ১৬ সেপ্টেম্বর বিজিবি ১১ জনকে উদ্ধার করে ১২ জনকে গ্রেপ্তার করেছিল।
