এ ঘটনার প্রতিবাদে শনিবার (১৭ জানুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছে এনসিপি নেতাকর্মীরা।
এ হামলার জন্য চন্দনাইশে বিএনপির প্রার্থী জসিম উদ্দিন আহমেদ ও তার অনুসারীদের দায়ী করেছেন এনসিপি নেতারা।
এনসিপি নেতারা জানান, শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) দিবাগত রাতে চন্দনাইশ উপজেলার বদুরপাড়া এলাকায় চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে হামলার এই ঘটনা ঘটে।
ঘটনায় আহত দুই নেতাকে শুক্রবার দিনগত রাত ১১টার দিকে চন্দনাইশ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে তাদের চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
হাসপাতালে এনসিপির নেতাকর্মীরা পুলিশ ও সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করেন, তারা পটিয়া থেকে সিএনজি অটোরিকশাযোগে চন্দনাইশে তাদের বাড়িতে যাচ্ছিলেন। পথে ১০-১২ জনের একদল দুর্বৃত্ত তাদের গতিরোধ করে।
এ সময় হামলাকারীরা তাদের মুখ চেপে ধরে ছুরিকাঘাত ও লাঠি দিয়ে বেধড়ক মারধর করেন।
এনসিপি নেতাকর্মীরা এই ঘটনার জন্য বিএনপির প্রার্থী জসিম উদ্দিন আহমেদকে দায়ী করেছেন।
গত ১৩ জানুয়ারি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চট্টগ্রামে সংবাদ সম্মেলন করে জসিমকে খুনি ও স্বৈরাচারের দোসর উল্লেখ করে তার প্রার্থীতা বাতিলের দাবি করায় হামলার এই ঘটনা ঘটায় বলে জানান এনসিপি নেতাকর্মীরা।
আর হামলার প্রতিবাদে শনিবার (১৭ জানুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে চন্দনাইশের গাছবাড়িয়া কলেজের সামনে এনসিপির নেতাকর্মীরা চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন।
এ সময় প্রায় দেড় ঘণ্টা মহাসড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ ছিল।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলার সংগঠক সাজ্জাদ হোসেন রাহাত বলেন, চন্দনাইশে গেজেটধারী জুলাই যোদ্ধা ও চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা এনসিপির নির্বাহী সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ। হামলাকারীরা তাদের মুখ চেপে ধরে ছুরিকাঘাত ও লাঠি দিয়ে বেধড়ক মারধর করে। এ ব্যাপারে আমরা শুক্রবার রাতেই থানায় জিডি করেছি। হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তিনি।
হামলার অভিযোগের ব্যাপারে জানতে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী জসিম উদ্দীন আহমদের মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন করলেও তিনি কল রিসিভ করেননি। পরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে এক ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, জুলাই যোদ্ধারা হচ্ছে আমাদের আবেগ। কিন্তু এলডিপি, কিছুসংখ্যক এনসিপি এবং জামায়াত ইসলামী তারা তো জোট। আমি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির মনোনীত একজন প্রার্থী।
আমি চন্দনাইশবাসীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলতে চাই দুষ্কৃতিকারী দল ফায়দা হাসিলের উদ্দেশে বদুরপাড়া রাস্তার মাথায় একটি কাল্পনিক ঘটনা সাজিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং বিভিন্ন মাধ্যমে মিথ্যা অপপ্রচার চালাচ্ছে। অথচ বদুরপাড়া রাস্তার মাথায় এমন কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি
চন্দনাইশের উন্নয়ন আর জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে পরাজিত শক্তিরা এখন গুজবের আশ্রয় নিচ্ছে। আমরা এই চন্দনাইশের সাধারণ মানুষকে নিয়ে সব প্রোপাগান্ডার জবাব দেবো ইনশাল্লাহ। আমার প্রিয় চন্দনাইশবাসী ও সাতকানিয়া আংশিক বাসীর কাছে আমার অনুরোধ, আপনারা কোনো ধরনের গুজবে কান দেবেন না। সত্যকে আড়াল করা যায় না, আর ষড়্যন্ত্রকারীরা কখনো সফল হতে পারে না।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে চন্দনাইশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইলিয়াছ খান বলেন, বিষয়টি জানতে পেরেছি। তবে এখনও থানায় কেউ লিখিত কোনো অভিযোগ করেনি। আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখছি।
বিকেলে কিছু নেতাকর্মী মহাসড়কে বিক্ষোভ করেছিল। পরে আমরা তাদের বুঝিয়ে সরিয়ে দিয়েছি। ঘটনার পর থেকে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।
প্রসঙ্গত, ধনাঢ্য ব্যবসায়ী জসিম উদ্দিন আহমেদ আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-১৪ (চন্দনাইশ ও সাতকানিয়া আংশিক) আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন।
তিনি আওয়ামী লীগ সরকার এবং তৎকালীন আইজিপি বেনজিরের ঘনিষ্ঠ হিসেবে চট্টগ্রামে আলোচিত।
২০২৪ সালে অনুষ্ঠিত উপজেলা পরিষদের নির্বাচনে তিনি আওয়ামী লীগের একাংশের সমর্থনে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন।
