স্টাফ রিপোর্টার : ইংল্যান্ডে পড়াশোনা শেষ করে চকলেটের প্যাকেটের মাধ্যমে বিশেষ কায়দায় দেশে মাদক সরবরাহ করত একটি চক্র। সেগুলো পোস্ট অফিস ও বিভিন্ন মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে দেওয়া হতো। এমন একটি চক্রের পাঁচ সদস্যকে নানা রকম বিদেশি মাদক, টাকা ও সরঞ্জামসহ আটক করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর।
সোমবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানানো হয়।
গ্রেফতার সদস্যরা হলেন ; জুবায়ের, জিএম প্রথিত শামস, আসিফ মাহবুব চৌধুরী, অপূর্ব রায় ও সৈয়দ শাইয়ান আহমেদ।
সংবাদ সম্মেলনে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের মহাপরিচালক হাসান মারুফ বলেন, আমাদের টিমের সদস্যরা রাজধানীর মোহাম্মদপুর, সেগুনবাগিচা, পল্টন এলাকায় অভিযান চালিয়ে যুক্তরাজ্য থেকে আমদানিকৃত ভয়ংকর মাদকদ্রব্য এমডিএমএ (যার বাণিজ্যিক নাম এক্সটাসি/মলি/হ্যাপি)-সহ প্রথমে তিনজনকে গতকাল (রোববার) গ্রেফতার করে।
আটককৃতদের দেওয়া তথ্যমতে, আরও দুজনকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারের সময় তাদের কাছ থেকে ৩১৭ পিস এমডিএম ট্যাবলেট, ১ কেজি ৬৭৬ গ্রাম কুশ, ৫০ মি.লি কিটামিন ও ২৫০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়।
এছাড়াও ৬টি মোবাইল ফোন ও ১টি ল্যাপটপ এবং নগদ ৭ লাখ ১১ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আমরা জানতে পারি, জুবায়ের (২৮)-সহ স্বনামধন্য প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় ও ইংলিশ মিডিয়ামে পড়ুয়া প্রযুক্তি-দক্ষ, শিক্ষিত ও উচ্চবিত্ত শ্রেণির আরও বেশ কয়েকজনের একটি চক্র গাঁজা, কুশ, এমডিএমএ ও কিটামিনসহ অন্যান্য আধুনিক মাদক পার্সেলযোগে উন্নত দেশ থেকে আমদানি করে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন মহানগরে পার্টি ড্রাগ হিসেবে ডিজে পার্টিতে এবং অভিজাত সোসাইটিতে সরবরাহ করছেন।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের মহাপরিচালক বলেন, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ও মাঠ পর্যায়ে আসামিদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করে জানা যায়, সম্প্রতি জানা যায়, মাদকের একটি চালান ডাকযোগে যুক্তরাজ্য থেকে বাংলাদেশে আসবে। সেই তথ্যের ভিত্তিতে গতকাল রোববার পল্টনের পুরাতন ডাক ভবনের বৈদেশিক ডাক শাখা থেকে যুক্তরাজ্য থেকে আসা এয়ার পার্সেল তল্লাশি করে কাগজের কার্টুনের ভেতর বিভিন্ন বিদেশি ব্রান্ডের চকলেটের নিচে লুকানো অবস্থায় একটি বাবল পেপারে মোড়ানো লালচে বর্ণের এমডিএমএ ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। এ পার্সেলের মালিক মাদক চক্রের অন্যতম হোতা মো. জুবায়েরের অবস্থান শনাক্ত করে তাকে মোহাম্মদপুরের ঢাকা উদ্যান এলাকা থেকে আটক করা হয়। জুবায়েরে দেওয়া তথ্যমতে মাদক চোরাকারবারী চক্রের অন্যতম হোতা জি এম প্রথিত সামসকে (২৫) গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে এমডিএমএ ট্যাবলেট, গাঁজা ও কিটামিন নামক মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়। জুবায়েরের দেওয়া তথ্যমতে, অপূর্ব রায়কে (২৫) গাঁজাসহ আটক করা হয় এবং প্রয়োজনীয় সাক্ষ্য-প্রমাণাদি জব্দ করা হয়। অপূর্বর দেওয়া তথ্য মতে সৈয়দ শাইয়ান আহমেদকে (২৪) গাঁজা ও এমডিএমএ চালানের সাথে সংশ্লিষ্ট সাক্ষ্য প্রমাণাদি জব্দ করা হয়।
এ চারজনের দেওয়া তথ্যে আসিফ মাহবুব চৌধুরীকে (২৭) আটক করা হয়।
তিনি আরও জানান, আসামিদের মোবাইল ফোন পর্যালোচনা করে দেখা যায়, তারা WhatsApp, Telegram এবং অন্যান্য এনক্রিপ্টেড অ্যাপ ব্যবহার করে নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ স্থাপন করে এই বাবসা চালাচ্ছিলেন।
বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও ইংরেজি মাধ্যমের শিক্ষার্থীরা এসব মাদক সরবরাহ করেন।
বিশেষ করে কয়েকজন ইংল্যান্ডে পড়াশোনা শেষে সেখান থেকে এগুলো সরবরাহ শুরু করেন।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর জানায়,আটক আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদে এর সাথে সংশ্লিষ্ট আরও একাধিক ব্যক্তির সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে। তদন্তসাপেক্ষে তাদের আইনের আওতায় আনা হবে। তাদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ অনুসারে নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে।
