স্টাফ রিপোর্টার : চাঁদপুরের মেঘনা নদীতে ঘন কুয়াশার মধ্যে যাত্রীবাহী দুই লঞ্চের মুখোমুখি সংঘর্ষে চারজন নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) দিবাগত রাত আনুমানিক ২টার দিকে হাইমচর উপজেলা ও হরিণা এলাকার মাঝামাঝি স্থানে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
দুর্ঘটনার পর হতাহত যাত্রীদের ঢাকার সদরঘাটে নেওয় হয়।
শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে সদরঘাট নৌ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোহাগ রানা জানান, সংঘর্ষে নিহত চারজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মরদেহগুলো সদরঘাট টার্মিনালে রাখা হয়েছে এবং ময়নাতদন্তের জন্য মিটফোর্ড হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হবে।
চাঁদপুর নৌ অঞ্চলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইমতিয়াজ আহমেদের পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, এমভি অ্যাডভেঞ্চার–৯ লঞ্চটি ঢাকা থেকে বরিশাল ও ঝালকাঠির উদ্দেশে যাচ্ছিল। অপরদিকে এমভি জাকির সম্রাট-৩ লঞ্চটি ভোলা থেকে যাত্রী নিয়ে ঢাকার দিকে আসছিল। রাত ১টা ৩৮ মিনিটের দিকে ঘন কুয়াশার মধ্যে হাইমচর এলাকায় লঞ্চ দুটি সংঘর্ষে জড়ায়।
নিহত চারজনই এমভি জাকির সম্রাট-৩ লঞ্চের যাত্রী।
তারা হলেন :ভোলার লালমোহন উপজেলার কাজিরাবাদ এলাকার সিরাজুল ব্যাপারীর ছেলে আবদুল গনি (৩৮), একই উপজেলার কালু খাঁর ছেলে মো. সাজু (৪৫), কচুখালী গজারিয়া এলাকার মো. মিলনের স্ত্রী মোসা. রিনা (৩৫) এবং চরফ্যাশন উপজেলার আহমদপুর এলাকার আমির হোসেনের ছেলে মো. হানিফ (৬০)।
এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও তিনজন।
তারা হলেন : লালমোহন উপজেলার মতলব ব্যাপারীর ছেলে মো. শাহাদত, আবদুল আজিজের ছেলে মোহাম্মদ মিনা (৪৫) এবং চরফ্যাশন উপজেলার মো. হানিফের স্ত্রী মোসা. রহিমা (৪৫)। আহতদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, শুক্রবার সকাল আনুমানিক ৯টা ৪৫ মিনিটে এমভি জাকির সম্রাট-৩ লঞ্চটি ঢাকা সদরঘাট নৌ টার্মিনালে পৌঁছায়। পরে সদরঘাট নৌ থানার পুলিশ মরদেহ উদ্ধার ও আহতদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করে।
অপরদিকে এমভি অ্যাডভেঞ্চার–৯ লঞ্চটি সকাল ৯টা ১৫ মিনিটে ঝালকাঠি নৌঘাটে পৌঁছালে লঞ্চটির চারজন কর্মীকে আটক করা হয়।
দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে নৌ পুলিশ।
