চট্টগ্রামের বায়েজিদ বোস্তামি থানাধীন পশ্চিম শহীদ নগর এলাকায় এক যুবকের খণ্ডিত দেহ উদ্ধারের ঘটনায় পরকিয়া ও অর্থ লেনদেনকে কেন্দ্র করে হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে অভিযোগ উঠেছে। তবে এসব অভিযোগ এখনও তদন্তাধীন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
স্থানীয় সূত্র জানায়, নিহত যুবকের সঙ্গে সুফিয়া নামের এক নারীর পরকীয়ার সম্পর্ক ছিল বলে এলাকায় আলোচনা রয়েছে। নিহত যুবক একজন প্রবাসী ছিলেন। দেশে ফিরে তিনি কিছুদিন ধরে ব্যবসায় জড়িত ছিলেন এবং ওই নারীর সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে আর্থিক লেনদেন চলছিল। অভিযোগ রয়েছে, সম্প্রতি পাওনা টাকা ফেরত চাইতে গেলে উভয়ের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয় এবং এর জের ধরেই তাকে হত্যা করা হয়।
নিহতের এক আত্মীয় জানান, আটক এক নারীর কাছ থেকে নিহত যুবক টাকা পাওনা ছিলেন। সেই টাকা চাইতে যাওয়ার সময়ই তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে বলে তাদের ধারণা।
তিনি এ ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও ফাঁসির দাবি জানান।
এলাকাবাসীর একজন নারী বলেন, ‘আমরা নিজের চোখে লাশের টুকরো দেখেছি। পাওনা টাকা চাওয়ার কারণেই তাকে ঘরে ডেকে নিয়ে হত্যা করে দেহ টুকরো টুকরো করা হয়েছে। এলাকায় আলোচনা রয়েছে, মুসা ও সুফিয়া মিলে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে।’
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, এ ঘটনায় সন্দেহভাজন চার থেকে পাঁচজনকে আটক করা হয়েছে। পাশাপাশি নিহতের দেহের বাকি অংশ উদ্ধারে দুই নারীকে সঙ্গে নিয়ে অভিযান চালানো হচ্ছে।
এর আগে বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) রাতে পশ্চিম শহীদ নগরের রংধনু গলি থেকে পলিথিনে মোড়ানো দুইটি হাত উদ্ধার করে পুলিশ। পরে একই এলাকা থেকে দুটি পা উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ জানায়, উদ্ধারকৃত হাত-পায়ের রগ কাটা ছিল। হাত দুটি বাহু পর্যন্ত এবং পা দুটি হাঁটু থেকে কেটে নেওয়া হয়েছে। হাত-পা ও শরীরের আরও কিছু অংশ উদ্ধার হলেও এখনো দেহের বাকি অংশ পাওয়া যায়নি।
বায়েজিদ বোস্তামি থানার পুলিশ জানায়, উদ্ধারকৃত হাতের আঙুলের ছাপ পরীক্ষার মাধ্যমে নিহত ব্যক্তির জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য শনাক্ত করা হয়েছে।
নিহত যুবকের বাড়ি চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলায় বলে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
বায়েজিদ বোস্তামি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহেদুল কবির বলেন, ‘নিহত যুবকের দেহের বাকি অংশ উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। কারা এ ঘটনায় জড়িত এবং কী কারণে হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, তা উদঘাটনে পুলিশ কাজ করছে। তদন্তের অগ্রগতি অনুযায়ী বিস্তারিত জানানো হবে।’
