স্টাফ রিপোর্টার : চট্টগ্রামের জোরারগঞ্জ থানা এলাকায় বিএসআরএম কারখানায় সশস্ত্র হামলা ভাংচুর লুটপাট এবং শ্রমিকদের হত্যা চেষ্টা মামলার প্রধান আসামিসহ ০৫ জনকে গ্রেফতার করেছে র্যাব-৭, চট্টগ্রামের আভিযানিক দল।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন : চট্টগ্রামের জোরারগঞ্জ থানার পূর্ব হিঙ্গুলী গ্রামের মোঃ নুর আলমের ছেলে মোঃ তাজুল ইসলাম (২৭), পরাগলপুর গ্রামের বশির আহম্মদের ছেলে মোঃ ইমন (২৬), উত্তর পরাগলপুর গ্রামের নিজাম উদ্দিনের ছেলে মোঃ সাদেক হোসেন (৩০), পরাগলপুর গ্রামের আলাউদ্দিনের ছেলে মোঃ হাসান (২২) এবং চাঁদপুর জেলার কচুয়া থানার সেংগুয়া গ্রামের মোঃ মনির হোসেনের ছেলে মোঃ মাহবুব (২৬)।
মামলা সূত্রে জানা যায়, গত ০১ আগস্ট স্থানীয় সন্ত্রাসী হক সাবসহ অজ্ঞাতনামা ১৮-২০ জনের একটি সশস্ত্র ডাকাত দল দেশীয় আগ্নেয়াস্ত্র কিরিচ, চাপাতি, রামদা ও লোহার রড় ইত্যাদি নিয়ে চট্টগ্রামের জোরারগঞ্জ থানা এলাকার বিএসআরএম স্টিল রোলিং-২ এবং স্টিল মেলটিং-২ কারখানায় সংঘবদ্ধ হামলায় চালায়।
এসময় ডাকাত দলের সদস্যরা কারখানার অফিসকক্ষ ভাংচুর, লুটপাঠ এবং কারাখানার ডিউটি অফিসার মোঃ শাহ আলম, সিকিউরিটি গার্ড মোরশেদ, ডাম্প ট্রাক চালক সোহাগসহ অন্যান্য শ্রমিকদের মারধর করে শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুত্বর রক্তাক্ত জখম। পরবর্তীতে কারখানার নিরাপত্তাকর্মীদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে কারখানা থেকে বিপুল পরিমাণ লোহা তৈরির স্ক্র্যাপ এবং নির্মাণাধীন নিরাপত্তা বেষ্টনীর টিন এবং নগদ টাকা নিয়ে যায় এবং বেষ্টনী নির্মাণ অব্যাহত রাখলে শ্রমিকদের হত্যার হুমকি প্রদানসহ কয়েকজন নিরাপত্তাকর্মীর নাম ধরে খোঁজাখুঁজি করে কারাখানা এলাকা হতে চলে যায়। এ ঘটনায় বিএসআরএম কারখানার ম্যানেজার মোঃ দেলোয়ার হোসেন মোল্লা বাদী হয়ে চট্টগ্রামের জোরারগঞ্জ থানায় ৩২ জন এজাহারনামীয় এবং অজ্ঞাতনাম ১৫/২০ জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন।
এমামলার আসামিদের গ্রেফতারের লক্ষ্যে র্যাব গোয়েন্দা নজরদারি শুরু করে। নজরদারির এক পর্যায়ে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায় এমামলার প্রধান আসামি চট্টগ্রাম মহানগরীর কোতোয়ালী থানার কাজির দেউরি এলাকায় অবস্থান করছে। রবিবার রাতে কাজির দেউরি এলাকায় অভিযান চালিয়ে এমামলার প্রধান আসামিকে গ্রেফতার করে হেফাজতে নেয় র্যাব। পরে তাঁর দেয়া তথ্যমতে অপর দুটি আভিযানিক দল রবিবার রাতে চট্টগ্রাম মহানগরীর কোতোয়ালী থানা এলাকার কাজির দেউরি ক্যাফে লায়লা হতে অপর ৪জন আসামিকে গ্রেফতার করে র্যাব।
সোমবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেন র্যাব-৭ চট্টগ্রামের সিনিয়র সহকারি পরিচালক (মিডিয়া) এআরএম মোজাফফর হোসেন।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়, সোমবার আসামিদের চট্টগ্রামের জোরারগঞ্জ থানা পুলিশের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে।
