ঢাকাWednesday , 13 August 2025
  1. অন্তর্বর্তীকালীন সরকার
  2. অর্থনীতি
  3. আইন আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল
  6. ইসলাম
  7. এক্সক্লুসিভ
  8. কৃষি ও পরিবেশ
  9. খেলাধুলা
  10. চট্রগ্রাম প্রতিদিন
  11. জবস
  12. জাতীয়
  13. ট্যুরিজম
  14. ড. মুহাম্মদ ইউনূস
  15. তথ্য প্রযুক্তি
আজকের সর্বশেষ সবখবর

বাংলা বললেই বাংলাদেশি!

admin
August 13, 2025 11:18 pm
Link Copied!

অনলাইন ডেস্ক : “বাংলা বললেই বাংলাদেশি”—এই স্লোগান তুলে ভারতের আসাম সহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বাঙালি নিগ্রহের যে ধারাবাহিকতা চলছে, তারই প্রতিবাদে ফুটল ক্ষোভের আগুন। বুধবার আসামের বরাক উপত্যকা বঙ্গসাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্মেলনের ডাকে শিলচরে ক্ষুদিরাম মূর্তির পাদদেশে ‘প্রতিবাদ অবস্থান’-এ একজোট হলেন নানা ভাষাগোষ্ঠীর মানুষ। সোজাসাপটা বললেন, বাংলাভাষীদের কোণঠাসা করার এটি পরিকল্পিত চক্রান্ত। একই মঞ্চে শঙ্কা ঝরল ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনী নিয়েও—আসামেম এনআরসির চূড়ান্ত তালিকা প্রস্তুত হলেও আরজিআই এখনও সিলমোহর দেয়নি, তার আগেই নতুন করে সংশোধনী শুরু হলে ফের হেনস্তার আশঙ্কা জাহির করলেন সবাই।

সাম্প্রতিক বিতর্কের সূত্রপাত দিল্লি পুলিশের এক নথিতে ‘বাংলাদেশি ভাষা’ উল্লেখ থেকে। প্রতিবাদ করেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এর জবাবে বিজেপি নেতা অমিত মালব্য মন্তব্য করেন—দিল্লি পুলিশ ঠিকই করেছে, কারণ অনুপ্রবেশকারীদের ভাষা ভারতের মূলধারার সঙ্গে মেলে না। এখানেই না থেমে তিনি বলেন, বাংলা বলে কোনও ভাষাই নেই; বাঙালি কেবল একটি জাতি।

এই মন্তব্যে ঝড় ওঠে দেশজুড়ে। শিলচরের সমাবেশে আসাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন উপাচার্য তপোধীর ভট্টাচার্য তীব্র প্রতিক্রিয়ায় বলেন, বাংলাভাষী মানুষের উপর এ এক সুপরিকল্পিত আক্রমণ। এটা কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ।” মালব্যকে ইতিহাস পড়ার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, “বাংলা ভাষার শিকড় চর্যাপদে, সেই উত্তরণের ধারা ভালো করে না জেনে এমন মন্তব্য করা অজ্ঞতা ছাড়া কিছু নয়।” সিলেটি-স্বতন্ত্রতার প্রসঙ্গ টেনে সতর্ক করেন—সিলেটি বাংলারই উপভাষা, ফাঁদে পা দিলে জাতিগত ঐক্য ভেঙে যাবে।

প্রাক্তন বিধায়ক আতাউর রহমান মাঝারভূইয়ার মতে, ধর্মীয় পরিচয় যাই হোক, বাংলাভাষী হলেই এখন টার্গেট। চুপ থাকলে আরও বড় খেসারত দিতে হবে। নাগরিক স্বার্থ রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের হরিদাস দত্ত ও শিক্ষাবিদ সমর কান্তি রায় চৌধুরী একমত—দেশজুড়ে ছড়ানো এই ঘটনাগুলোর পেছনে উদ্দেশ্য একটাই, বাঙালিকে প্রান্তিক করে দেওয়া। তাদের অধিকার এবং মাথা উঁচু করে কথা বলার অধিকার কেড়ে নেওয়া।

প্রাক্তন মন্ত্রী অজিত সিং বলেন, বাংলা তাঁর মাতৃভাষা নয়, তবুও এই সুমিষ্ট ভাষার প্রতি তাঁর শ্রদ্ধা অপরিসীম—তাই এই আক্রমণ তাঁকে আহত করেছে। ভাষাবিদ আবিদরাজা মজুমদার ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস তুলে ধরে বলেন, “পূর্ব পাকিস্তানে উর্দু চাপানোর প্রতিবাদে যেমন রক্ত ঝরেছিল, বরাকেও ১১ শহিদ প্রাণ দিয়েছিলেন মাতৃভাষার জন্য—এ ইতিহাস দেশ-কাল পেরিয়ে এক জাতির রক্তমাখা স্মৃতি।

মনিপুরী সাহিত্যের বিকাশ যাত্রায় বাংলা ভাষার অবদানের কথা স্মরণ করেন শান্তিকুমার সিংহ। তিনি মনে করিয়ে দেন, বাংলার অবদানেই রচিত হয়েছিল প্রথম মণিপুরি উপন্যাস মাধবী। তার স্পষ্ট মত, বাংলার উপর আক্রমণ মানে আমাদের সাংস্কৃতিক শিকড়ের উপর আঘাত। হিন্দিভাষী সঞ্জীব রায় বলেন, ভোজপুরি তাঁর ঘরের ভাষা হলেও বাংলা তাঁর দ্বিতীয় মাতৃভাষা; এর অপমান তিনি মেনে নেবেন না।

সি আর পি সির সাধারণ সম্পাদক সাধন পুরকায়স্থ শুধু মালব্য নয়, মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মাকেও দায়ী করেন। তিনি বলেন, মুখ্যমন্ত্রীর প্ররোচনামূলক মন্তব্যের পর থেকেই আক্রমণের খাঁড়া নেমে এসেছে গোটা দেশের এবং অসমের বাঙালির উপর।

সম্মেলনের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক গৌতম প্রসাদ দত্ত স্মরণ করান, স্বাধীনতা সংগ্রামে বাঙালির আত্মাহুতির কথা আজ কৌশলে মুছে দেওয়া হচ্ছে। দিল্লি, হরিয়ানা, গুজরাট—সবখানেই বাঙালি নিপীড়ন। দিল্লির চিত্তরঞ্জন পার্কে মাছের দোকান বন্ধ, গুজরাটে বাংলায় লেখা ‘হিন্দু হোটেল’ সাইনবোর্ড উধাও, অসমে বাসযাত্রীদের বাংলাদেশি সন্দেহে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া ইত্যাদি ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে তিনি সাফ জানিয়ে দেন, উজান অসমে গত একমাসের ঘটনাগুলো তাঁর কাছে উদ্বেগজনক। তাঁর তির্যক মন্তব্য, যেখানে প্রধানমন্ত্রীই বাংলা ও অসমীয়াকে ধ্রুপদী ভাষার মর্যাদা দিয়েছেন, সেখানে ক্ষমতাসীন দলের এক শীর্ষ নেতা বলছেন বাংলা নাকি ভাষাই নয়!

প্রতিবাদের পরও মালব্য অনড়, আর শাসকদল নীরব। তিনি ধন্যবাদ জানান রাজ্যসভার সাংসদ কণাদ পুরকায়স্থ ও প্রাক্তন সাংসদ রাজদীপ রায়কে, যাঁরা দ্বিধা ছাড়াই প্রতিবাদ জানিয়েছেন। শেষে সতর্কবার্তা—এখনই একজোট না হলে এই আগুন অন্য ভাষাগোষ্ঠীর ঘরেও ছড়াবে।

এদিনের সমাবেশে বক্তব্য রাখেন কাছাড় জেলা সভাপতি সঞ্জীব দেব লস্কর, সম্মেলনের দূরশিক্ষা কেন্দ্রের আচার্য বিভাস রঞ্জন চৌধুরী, প্রাক্তন অধ্যক্ষ দীপঙ্কর চন্দ, প্রাক্তন জেলা কংগ্রেস সভাপতি প্রদীপ দে, সমাজকর্মী নির্মল দাস, পূবালীর সভাপতি সুপ্রিয় ভট্টাচার্য, কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি সুবীর রায় চৌধুরী-সহ বরাক উপত্যকার নানা প্রান্ত থেকে আসা প্রতিনিধিরা। উপস্থিত ছিলেন বরাক উপত্যকা বঙ্গ সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্মেলনের কর্মকর্তা মিলন উদ্দিন লস্কর,,অনিল পাল,উত্তম কুমার সাহা,, সীমান্ত ভট্টাচার্য, বিশ্বনাথ ভট্টাচার্য, দীপক সেনগুপ্ত, শিহাবুদ্দিন আহমেদ,সুশান্ত সেন প্রমুখ।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।